
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য সংস্থা (বাইসস)
জাতীয় সম্মেলন-২০২৩ সফল করায় আন্তরিক অভিনন্দন
সম্মানিত প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ,
আসসালামু আলাইকুম। আপনাদের সদয় উপস্থিতি ও আন্তরিক সহযোগীতায় দিনব্যাপী আনন্দঘন উৎসবের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) এর জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজকের এই মিলনমেলা আগামী দিনে দেশব্যাপী সম্মানিত সদষ্যদের মাঝে সু—সম্পর্কের সেতুবন্ধন সৃষ্টি সহায়ক হবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। ইনশাআল্লাহ সকলে মিলে স্থানীয় সরকারের অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ স্তর তথা সারাদেশের ৪৫৯৯টি ইউনিয়ন পরিষদকে গতিশীল, শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে জনগনের কাংখিত সেবা প্রদান ও কল্যাণকর রাষ্ট্র বিনির্মাণে যথাযথ ভূমিকা রেখে বাইসস এর গৌরবময় অতীতকে আরো সমৃন্ধ করবো। হে-মহান সৃষ্টিকর্ত আমাদের সকলের সহায় হোন-আমিন।
বাইসস- এর উদ্দেশ্য ও আদর্শ
আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে, বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) দেশব্যাপী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের জাতীয় সংগঠন। তৃণমূল পর্যায়ে জনপ্রতিনিধিদের অর্থাৎ দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য/সদস্যাদের একটি জাতীয় সংগঠনের নেতৃত্বে সংগঠিত করে ইউ. পি. সদস্যদের ভূমিকা ও অংশগ্রহন নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামকে সুশিক্ষিত ও শক্তিশালী অর্থনীতিতে সুপ্রতিষ্ঠিত করে একটি আত্বনির্ভরশীল ও মর্যাদপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এই সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য।
বাইসস এর মিশন/ভিশন
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সফল করা।
নিরক্ষরতা দূরীকরণ ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম সফল করা।
ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদের রাস্তার পাশে বৃক্ষরোপন করে বনায়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা।
অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়নে ক্ষুদ্র এবং কুঠির শিল্প সহ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা।
পল্লী ও কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার করা।
বেকার সমস্যা দূরীকরণে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
প্রলয়ংকারী প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধ ও মোকাবেলা করা।
পল্লী গ্রামের আইন শৃংঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সাধন করা।
পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসাধারনকে সচেতন করা।
দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা দূরীকরণে একটি বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করবে।
বাইসস এর অর্জন
ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদকাল ৩ বৎসরের স্থলে পূর্বের ন্যায় ৫ বৎসর করা।
ইউনিয়ন পরিষদের ৩টি ওয়ার্ডের স্থলে ৯টি ওয়ার্ডে বিভক্তকরণ।
ইউনিয়ন পরিষদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ।
ইউনিয়ন পরিষদকে প্রশাসনিক একাংশ ঘোষণা।
ইউনিয়ন পরিষদের লোকবল বৃদ্ধি।
গ্রাম আদালত পুন:প্রতিষ্ঠা করা।
প্রতিটা নাগরিকের জন্ম ও মৃত্যু সনদ প্রদান প্রচলণ করা।
জাতীয় পরিচয় পত্র (এন আই ডি) চালু করা।
জলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ পুন:চালুর ব্যবস্থা করা।
জেলা পরিষদ নির্বাচনে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যাদের ভোটার হিসেবে অন্তভূর্ক্তকরণ।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন—২০০৯ জাতীয় সংসদ কর্তৃক অনুমোদনে ভূমিকা রাখা।
বর্তমান নির্বাহী পরিষদের লক্ষ্য
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য/সদস্যাগণকে শপথ গ্রহনের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করা।
বিদ্যমান আইন মোতাবেক অবিলম্বে ইউনিয়ন পরিষদকে পূণার্ঙ্গ প্রশাসনিক ইউনিট হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা।
অবিলম্বে দেশের সকল ইউনিয়ন পরিষদের— “ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন” এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে ইউনিয়ন পরিষদের অধিনে সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীগনকে ইউনিয়ন পরিষদে ন্যস্ত করার ব্যবস্থা করা।
সু-নির্দিষ্ট পদ মর্যাদা নির্ধারণ পূর্বক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদেরকে সিনিয়র সহকারী সচিব ও সদস্য/সদস্যাদেরকে সহকারী সচিব পদ মর্যাদায় উন্নীত করে তদানুযায়ী মাসিক বেতন সহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক সকল সুবিধা নিয়মিত প্রদান করা।
সুষ্ঠুভাবে নাগরিক দায়িত্ব পালনের জন্য সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের ন্যায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও জনসাধারনের ভোগান্তি কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে- “ওয়ার্ড কার্যালয়” স্থাপন করে নাগরিক প্রত্যায়ন পত্র, চারিত্রিক সনদ পত্র, ছবি সত্যায়িত করার ক্ষমতা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যাদের উপর ন্যস্ত করা।
সু-নির্দিষ্ঠ অভিযোগ নিশ্চিত ব্যতীত ও জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যাদের গ্রেফতার বা হয়রানী না করার ব্যবস্থা করা।
ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের জনকল্যাণমূলক কাজে অধিক দায়িত্বশীল ও আগ্রহী করার লক্ষ্যে- সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন ও সমাজকল্যাণ মূলক বিশেষ অবদানের জন্য সারাদেশ, জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যাদের মধ্য হতে বাছাই পূর্বক শ্রেষ্ঠতম সদস্য/সদস্যাদেরকে জাতীয় পুরষ্কার প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহন করা।
নিজ নিজ ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন বাস্তবায়ন কমিটিতে ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যা নয় এরূপ কোন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত না করা এবং ইউনিয়ন প্রকল্প কমিটি কতৃর্ক ২৫ (পঁচিশ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত মূল্যমানের প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষমতা ইউ.পিসদস্য/সদস্যাদের উপর অর্পণ করা।
নিজ নিজ ইউনিয়নের উন্নয়ন তহবিল গঠন ও পরিচালনার জন্য ইউনিয়নভুক্ত হাট-বাজার, জল-মহাল ইত্যাদি আয়ের উৎস গুলো ইজারা প্রদানের দায়িত্ব ইউনিয়ন পরিষদের উপর ন্যস্ত করা।
উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্য/সদস্যাগণকে উপস্থিত থাকার ব্যবস্থা গ্রহন করা।
ইউনিয়ন পরিষদের আয়ের উৎস/খাত সম্প্রসারণ ও আয় বৃদ্ধির জন্য সময়োযোগী উদ্দে্যাগ গ্রহন করা।
স্থানীয় সামাজিক বিরোধ, সাধারণ প্রকৃতির অপরাধের নিষ্পত্তি ও প্রয়োজনে বিকল্প পদ্ধতি বাস্তবায়নের রুপরেখা প্রনয়ণ করা।
ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠান সমূহের মাধ্যমে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করা।
স্থানীয় পর্যায়ে আইন শৃঙ্খলার বিষয়ে জনগণের সাহায্য সহযোগিতা নিশ্চিত করা।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান- অনুচ্ছেদ ১১ এর শর্ত পূরণে; ইউনিয়ন পরিষদ আইন’ ২০০৯ এর দ্বিতীয় অধ্যায়- ধারা- ৪,৫,৬ ও ৭ এর যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে ওয়ার্ড সভার উদ্দেশ্য পূরণ করা।
স্থায়ী কমিটি সমূহের বর্তমান বিধান পর্যালোচনা করে সেগুলির পূনর্গঠন এবং কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট ও সুনিশ্চিত করা।
পারস্পারিক সম্পর্ক ও সমন্বয় সাধণ এবং অংশগ্রহন মূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রনয়ন, বাজেট প্রনয়ণ/বিভাজন ও বাস্তবায়ন করা।
প্রশাসনিক একক ও স্থানীয় সরকার এককের সমান্তরাল অবস্থান রহিত করে স্থানীয় সরকারকে এককভাবে একটি সম্পূর্ণ স্বায়িত্বশাসিত সংস্থার মর্যাদায় উন্নীত করা।
অংশগ্রহন মূলক স্থানীয় পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন এবং কার্যকর মূল্যায়নের কৌশল প্রনয়ণ করা।
দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে দুষ্কৃতিকারী অথবা আততায়ী কর্তৃক কোন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য/সদস্যা আহত কিংবা নিহত হলে উক্ত পরিবারকে আহতের ক্ষেত্রে ২ (দুই) লক্ষ টাকা এবং নিহতের ক্ষেত্রে পরিবারকে ১০ (দশ) লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ বাবদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা।
বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ১ম ধাপটি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। আমাদের সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনীধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহন নিশ্চিতের বিধান রাখা হয়েছে। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্যের দ্বারা ওয়ার্ড সভার মাধ্যমে জনগনের অংশগ্রহনের সুযোগ রয়েছে, ফলে শুধুমাত্র আমাদের মাধ্যমেই সংবিধানের এই বাধ্যবাধকতা যথার্থ ভাবে পূরণ করা সম্ভব।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থা (বাইসস) এর মহাসচিব হিসেবে দেশের সকল ইউ.পি সদস্য/সদস্যার সু-স্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করছি এবং আমাদের গৃহীত কর্মকৌশল সমূহের প্রতি আস্থা রেখে সকল কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণের আহবান জানাচ্ছি।
হে-মহান সর্বশক্তিমান আমাদের সহায় হোন-আমিন ।
চেয়ারম্যান সমিতি জিন্দাবাদ
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
ধন্যে নয়, সৃষ্টি
বিনম্র নয়, একত্র
মনোবলদেরে
বাইসস-এর জাতীয় নির্বাহী পরিষদের পক্ষে
(বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্বাস উদ্দিন)
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
(এম সাইফুল ইসলাম মোয়াজ্জেম)
মহাসচিব